যুবদলের কমিটি পুনর্গঠন: তৃণমূলের আস্থায় এগিয়ে আকরামুল হাসান মিন্টু


যুবদলের কমিটি পুনর্গঠন: তৃণমূলের আস্থায় এগিয়ে আকরামুল হাসান মিন্টু

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনকে ঘিরে বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন পর যুবদলের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। রাজপথে সক্রিয়, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের পরিকল্পনা চলছে। আর এই প্রক্রিয়ায় যুবদলের আগামীর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান মিন্টুর নাম।

দলীয় একাধিক সূত্র ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকরামুল হাসান মিন্টু দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখার কারণে তিনি কর্মীদের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন।

এদিকে ২০২৪ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্না-কে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নয়ন-কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি ঘোষণার সময় বলা হয়েছিল, পরবর্তীতে সাংগঠনিক প্রয়োজন ও নেতৃত্বের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। তবে সময় গড়ালেও সেই প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

আংশিক কমিটি ঘোষণার পর ইতোমধ্যে প্রায় ২২ মাস পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়েও পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা না হওয়ায় সংগঠনের ভেতরে নানা আলোচনা চলছে। পদপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বেশি হওয়া, বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন এবং সাংগঠনিক ভারসাম্য রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে যাচাই-বাছাই চলায় প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

যুবদলের আগামীর নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় আরও যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, ঢাকা মহানগর যুবদলের সাবেক দায়িত্বশীল নেতা গোলাম মাওলা শাহীন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল কবীর পল এবং সংগঠনের সাবেক সক্রিয় নেতা বিল্লাল হোসেন তারেক। তবে দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণ সম্পাদক পদে আকরামুল হাসান মিন্টুর প্রতি তৃণমূলের আগ্রহ ও সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি এমন নেতৃত্ব খুঁজছে, যারা রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারবেন। সেই বিবেচনায় আকরামুল হাসান মিন্টুর সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠপর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে আলোচনায় এগিয়ে রেখেছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, তার অন্যতম বড় গুণ হলো সবাইকে নিয়ে চলার মানসিকতা। সংগঠনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে সাংগঠনিক সফর, কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং অভ্যন্তরীণ সমন্বয় তৈরিতে তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে তাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে নাশকতার মামলায় আদালত তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

এরপর ২০২০ সালের ৯ জুলাই নরসিংদীর নিজ বাড়ি থেকে আবারও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

২০২১ সালে তার মুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা দেখা যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক গ্রুপ, পেজ ও সমর্থক মহলে তাকে “ত্যাগী নেতা”, “রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক” এবং “আগামীর নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় মুখ” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

সমর্থকরা দাবি করছেন, হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের মধ্যেও তিনি কখনো রাজপথ ছাড়েননি। বরং প্রতিকূল সময়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনকে সক্রিয় রাখতে কাজ করেছেন।

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যুবদলের নেতৃত্বে এমন একজন নেতার প্রয়োজন, যিনি বিভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে কার্যকর নেতৃত্ব দেবেন। তাদের প্রত্যাশা, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হলে যুবদল আরও গতিশীল ও শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হবে।