
ছবিঃ সংগৃহীত
নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের নবীনগর পশ্চিমপাড়া গ্রামে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন চার কন্যাসন্তানসহ বন্যা খাতুন ও তার পরিবার। স্বামী রেজাউল করিম ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়েই কোনোভাবে চলছে ছয় সদস্যের সংসার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৩ বছর আগে বন্যা খাতুনের সঙ্গে রেজাউল করিমের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে তাদের কোলজুড়ে আসে প্রথম কন্যা সন্তান আয়তাল কুরসি (৭)। এরপর তিন বছর পর জন্ম নেয় যমজ তিন কন্যা—আমেনা, ফাতেমা ও সুরাইয়া, যাদের বয়স এখন তিন বছর। চার সন্তানের পরিবারে এরপর থেকেই শুরু হয় চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার জীবনসংগ্রাম।
সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা দূরে থাক, অনেক সময় ন্যূনতম খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে। পবিত্র রমজান মাসসহ বছরের বিভিন্ন সময়ে নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্যও থাকে না তাদের। বৃষ্টির দিনে ঝুপড়ি ঘরে পানি পড়ে, আর রাতের বেলা সাপ-বিচ্ছুর আতঙ্ক নিয়ে কোনো রকমে পলিথিন ও বাঁশের কাঠামোর নিচে কাটে তাদের জীবন।
বন্যা খাতুন বলেন, “বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে। রাতে সাপ-বিচ্ছুর ভয়ে থাকতে হয়। চার সন্তান নিয়ে সারাদিন কষ্টের মধ্যে দিন কাটে। সরকারের কাছে অনুরোধ, আমাদের অবস্থাটা দেখে যেন একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়।”
স্থানীয়রা জানান, বর্তমান সময়েও একটি পরিবারের এমন মানবেতর জীবনযাপন অত্যন্ত দুঃখজনক। বর্ষার রাতে ঘরটি টিকে থাকবে কি না—এ নিয়ে সবসময়ই আতঙ্কে থাকেন প্রতিবেশীরাও। তারা দ্রুত পরিবারটিকে সরকারি সহায়তা ও একটি স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আপনার মতামত লিখুন :